ডেঙ্গু থেকে রক্ষার তিন উপায়
পৃথিবিতে যতো দূর্যোগ-দূর্দশার সৃষ্টি হয় তার সবই মানুষের কর্মফল। আল্লাহ তা’আলা কুরআনুল কারীমের সুরা রূমে ইরশাদ করেছেন-‘স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে’। বিশ্ব বিখ্যাত হাদীসবেত্তা ইবনে হাজার আসকালানী রহ: বলেছেন-যিলহজ্জের প্রথম দশটি দিনের বিশেষ গুরুত্বের কারণ হলো, এই দিনগুলোতে ইসলামের ৫টি রুকনের সমাহার রয়েছে। যেমন ঈমান ও সালাত অন্য দিনগুলোর মতো এদিন গুলোতেও বিদ্যমান। যাকাত বছরের অন্য যেকোন সময়ের মতো এসময়েও আদায় করা যায়। আরাফার দিনে সিয়ামের নির্দেশের কারণে ইসলামের আরেকটি রুকন- সিয়ামেরও নজীর এই দশকে পাওয়া যায়। আর পঞ্চম রুকন বা হজ্জ এবং কুরবানীর বিধান তো কেবল এই দশকেই পালনযোগ্য। তাছাড়া এই দশকেই রয়েছে আরাফা ও কুরবানীর দিন, আরাফার দিনের দু’আকে শ্রেষ্ঠ দু’আ বলা হয়েছে। আর কুরবানীর দিনকে বছরের সেরা দিন বলে আবূ দাঊদ ও নাসাঈর এক হাদীসে অভিহিত করা হয়েছে। সুতরাং মাস হিসেবে রামাদ্বান আর দিন হিসেবে এই দশক শ্রেষ্ঠ ও সর্বাপেক্ষা মর্যাদাপূর্ণ।
সম্প্রতি ডেঙ্গুর মতো ভয়াবহ রোগ যে মহামারীর আকার ধারণ করেছে তাও আমাদের কর্মফল। মশার বিস্তারের প্রধান কারণ অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। এক্ষেত্রে আমরা যদি ইসলামের দিকনির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলি তাহলে ডেঙ্গুর মতো সংকট সহজে দুর হওয়া সম্ভব। ইসলামে
পরিচ্ছন্নতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সহীহ মুসলিমে বর্ণতি হাদীসে পবিত্রতাকে ঈমানের অঙ্গ বলা হয়েছে। মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন-রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক-ক্ষতিকর কোন কিছু সরিয়ে ফেলা ঈমানের সবচেয়ে সাধারণ স্তর। দশটি কাজকে রাসুল (সা:) প্রকৃতিগত সুন্নাহ বলেছেন, তার প্রায় সবগুলোই পরিচ্ছন্নতা সংশ্লিষ্ট।
পথে ঘাটে বা কোন ছাউনি ইত্যাদি বা তার আশেপাশে মলমূত্র ত্যাগকারীর প্রতি আল্লাহর লানতের মতো কঠোর হুশিয়ারী এসেছে। এছাড়াও বুখারী-মুসলিমের বিখ্যাত হাদীসে রাসুল (সা:) বলেছেন-প্রকৃত মুসলিম সে ব্যক্তি যার হাত ও মুখের অনিষ্ট থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদে থাকে। সুতরাং নিজ আঙ্গিনা বা আশেপাশে ময়লা আবর্জনা ফেলা কোন মুসলিমের কাজ হতে পারে না। যথাস্থানে ময়লা না ফেলে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা বা খাবারের উচ্ছিষ্ট ইত্যাদি ফেলার কারণে যদি সেখান থেকে কোন মশা বা ক্ষতিকর কিছু তৈরি হয় এবং তার ফলে কোন মানষের মৃত্যু বা অসুস্থতা দেখা দেয় তাহলে নি:সন্দেহে তার জন্য ময়লা ফেলা ব্যক্তির দায় থাকবে। সুতরাং একজন মুসলিমকে সব সময় দায়িত্ববান নাগরিক হতে হবে। তার কর্ম ও আচরণ অন্যের কষ্টের কারণ হতে পারে না। আর প্রকৃত মুসলিমের এই পরিচয় যদি আমরা নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে পারি তখনই ডেঙ্গুসহ এ জাতীয় সমস্যা থেকে রক্ষা পাবে সমাজ।
আমরা অনেকেই জানি না, উপরে উল্লেখিত হাদীসসমূহের আলোকে যত্রতত্র ময়লা ফেলা গুনাহের কাজ। পক্ষান্তরে পথের কষ্টদায়ক বস্তু (যেমন দূর্গন্ধময় বা ময়লা আবর্জনা ইত্যাদি) যদি সরিয়ে ফেলার জন্য কেউ উদ্যোগী হয়, তবে এটা তার ঈমানদারিত্বের বহি:প্রকাশ।
দ্বিতীয়ত: কিছু কিছু অপরাধের শাস্তি আল্লাহ তা’আলা দুনিয়াতেই দিয়ে থাকেন। আর অপরাধ গণহারে হলে তার শাস্তিও গণহারে আসে। যেহেতু যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলে পরিবেশ বিপর্যয়ের পেছনে আমরা প্রায় সবাই কোন না কোনভাবে কিছু না কিছু দায়ী, সেহেতু তার শাস্তিটাও এখন অনেকটা গণশাস্তিতে রূপ নিয়েছে। এছাড়াও নানা অন্যায়-অপরাধের কারণে আল্লাহর গণআযাব আমাদের প্রাপ্য হয়ে গিয়েছে বহু আগেই। এমত পরিস্থিতিতে মুক্তির জন্য জাতিগত তাওবা ও ইস্তেগফারের কোন বিকল্প নাই। কুরআনুল হাকীমে সুরা আনফালে ইরশাদ হয়েছে- ‘তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে আল্লাহ কখনও তাদের উপর আযাব দেবেন না’। এছাড়াও বিভিন্ন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, ইস্তেগফার ও তাওবার মাধ্যমে বিপদাপদ-দুশ্চিন্তা এবং দূর্যোগ-দূর্দশা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ডেঙ্গু যেহেতু এখন জাতীয় সমস্যা, সুতরাং সারা দেশে গণইস্তেগফার ও গণতাওবার ডাক দেওয়া উচিত। এর মাধ্যমেই আল্লাহর নিকট আমরা মুক্তি আশা করতে পারি আমরা।
তৃতীয়ত: যেসব প্রাণীর দংশন বা হুল ফুটানোর ফলে মানুষ অসুস্থ কিংবা মৃত্যু বরণ করতে পারে সেসব প্রাণীর আক্রমন বা ক্ষতি থেকে সুরক্ষার জন্য একটি বিশেষ দুআ শিক্ষা দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা:), আর সেটি বর্ণিত হয়েছে মুসনাদে আহমাদ ও ইবনে মাজায়। দুআটি হলো- ‘আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক’। অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। যে ব্যক্তি এই দুআ প্রতিদিন সন্ধ্যায় ৩বার বলবে আল্লাহ তা’আলা তাকে যেকোন বিষধর প্রাণীর আক্রমন থেকে রক্ষা করবেন।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin