যৌতুকমুক্ত বিবাহ আয়োজন
প্রচলিত যৌতুক প্রথা যুগ যুগ ধরে চলে আসা একটি ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধি। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় ভেঙ্গে গেছে হাজারো বিয়ে, ঘর-সংসার। হারিয়ে গেছে অসংখ্য প্রাণ। এই প্রথার আবর্তে শুধু অসহায় মেয়েরাই বিপন্ন অবস্থার শিকার হয় না; শিকার হয় কন্যা দায়গ্রস্থ পিতা-মাতা ও পরিবার।
শরীয়তের বিধানে যৌতুক সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ এবং মহাপাপ। পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে- ‘তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ গ্রাস করো না এবং জেনে শুনে লোকদের ধন-সম্পদের কিয়দংশ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে বিচারকগণকে উৎকোচ দিও না’। (সূরা আল-বাকারা: ১৮৮)
পবিত্র কোরআনে যৌতুক আদান-প্রদানে নিষেধপূর্বক আরো ইরশাদ হয়েছে- আর বিয়ের সময় থেকে আজীবন স্ত্রীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব স্বামীর উপর। বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেনমোহর তথা উপঢৌকন দেয়ার দায়িত্বও স্বামীর। যেমন- ‘পুরুষরা স্ত্রীলোকদের অভিভাবক, কেননা আল্লাহ তাদের কতককে কতকের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং এ কারণেও যে, তারা নিজেদের ধন-সম্পদ থেকে স্ত্রীলোকদের জন্য খরচ করে (যা পুরুষদের উপর অবশ্য কর্তব্য)’। (সূরা আন-নিসা: ৩৪)
যৌতুক লেনদেন এত জঘন্য অপরাধ যে হাদীসে নববীতে রাসূল (সা.) কঠিন বাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, যদি কোন ব্যক্তি ফেরত না দেয়ার নিয়তে অর্থপ্রাপ্তির লোভে কোন নারীকে বিয়ে করে, তবে ঐ ব্যক্তি একজন যিনাকারী। আর যে ব্যক্তি ফেরত না দেয়ার নিয়তে কোন ঋণ গ্রহণ করে, তবে ঐ ব্যক্তি একজন চোর। (মিশকাতুল মাসাবিহ)
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন যৌতুক বিরোধী বিশেষ প্রচারণা ও গণসচেতনতা মূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশের দুস্থ, অসচ্ছল ও গরিব পরিবারের মেয়েদের যৌতুকমুক্ত বিবাহের আয়োজন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ফাউন্ডেশন আশা করে অন্যান্য প্রকল্পের ন্যায় এ প্রকল্প বাস্তবায়নেও হিতাকাঙ্ক্ষী ভাই-বোনেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসবেন।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন

গভঃ রেজিঃ ‍S-13111/2019